শিরোনাম

» যে ঘরে সবই উল্টো

যে ঘরে সবই উল্টো

আজব এক মজার ঘর, যেখানে সবকিছুই উল্টো। মেঝের পরিবর্তে এখানে ঢুকলে দেখা যায় আসবাবসহ সবকিছু সিলিংয়ে ঝুলছে। সবকিছু উল্টো করে দেখার মজার অভিজ্ঞতার জন্য ভীড় জমান পর্যটকরা। নানান স্থাপত্য কৌশল প্রয়োগ করে একটা ভ্রম তৈরি করা হয়েছে, বাড়িতে ঢুকতেই আপনার নিজেকে বিভ্রমের জগতে আবিষ্কার করবেন। এখানে সবকিছুই প্রচলিত নিয়মের উল্টো। এ যেনো আজব মজার ঘর।

আর এই মজার অভিজ্ঞতা দেশেই উপভোগের জন্য আপসাইড ডাউন হাউজ তৈরি করা হয়েছে ঢাকার লালমাটিয়ায়।

সাতটি সুপরিসর কক্ষে থাকা নানান আসবাবসহ ঘর সাজানোর উপকরণগুলোও উল্টো করে ঝোলানো। এর সঙ্গে আছে নজরকাড়া আলোকসজ্জা। পাশাপাশি ‘তান্ত্রিক ঘর’ নামের আরেকটি কক্ষ চোখে পড়বে যেখানে রয়েছে চমৎকার সব দেয়ালচিত্র। শূন্যের ওপর বসে থাকা বা শোয়ার ছবি তোলার জন্য তৈরি করা হয়েছে ঘরটি।

লালমাটিয়ার সি ব্লকে, মিনার মসজিদের পূর্ব পাশে ২/৬ নম্বর ভবনের নিচতলার বাড়িতে ঢুকতেই সব কিছুই উল্টো করে দেখতে পাবেন দর্শনার্থীরা। ভিন্ন-ধারার অন্দরসজ্জা নিয়ে যাত্রা শুরু করা ‘আপসাইড ডাউন হাউজ’ বিনোদনের এক ব্যতিক্রমী আয়োজন। দেশের মানুষকে ভিন্ন স্বাদের বিনোদন দেয়ার জন্য তিন হাজার বর্গফুটের বেশি আয়তনের গ্যালারীটি সাজানো হয়েছে অভিনব কায়দায়। বসার চেয়ার, দাবার বোর্ড, টেলিভিশন থেকে শুরু করে সবকিছুই উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা।

প্রতিটি কক্ষে থাকা আসবাবের সঙ্গে বিশেষ ভঙ্গিতে তোলা স্বাভাবিক ছবি উল্টো করে ধরলেই পাবেন আসল মজা। উল্টো করে ধরা এই ছবিই তৈরি করে দারুণ বিভ্রম। এ যেন আশ্চর্যজনক ব্যাপার।

লালমাটিয়ার ঘরটির লোকজন যেন হাওয়ায় ভাসছে। ঘরের মধ্য উল্টো সব আসবাবপত্র এমনকি মানুষও উল্টো হয়েই চলাফেরা করছে। আসলে এই পুরো ব্যাপারটাই উল্টো। কারণ এ বাড়ির ছাদ নিচে আর মেঝে উপরে।

ত্রিমাত্রিক আলোকচিত্রের মাধ্যমে এই আপসাইড ডাউনের ঘরবাড়ির প্রয়োজনীয় সবকিছু সাজানো হয়েছে। এখানকার অদ্ভুত চিত্তবিনোদনের জন্য পরিবার বা বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে চলে যেতে পারেন লালমাটিয়ার এই অদ্ভুত ঘরে। মজার সব ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিতে পারেন নিমিষেই।

মাত্র ৪ জন তরুণের উদ্যোগে তৈরি এই মজার গ্যালারীতে জোরালোভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে নিরাপত্তা। ঝুলে থাকা আসবাবগুলো যাতে খুলে পড়ে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, সে লক্ষ্যে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। ভবিষ্যতে এখানে প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাও আছে।

দর্শনার্থীদের গ্যালারি ঘুরিয়ে দেখানো এবং ছবি তোলার কাজে সহযোগিতার জন্য বেশ কয়েকজন লোক নিয়োগ করা আছে। তারা প্রত্যেকে পেশাদার আলোকচিত্রী।

বেলা ২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে আপসাইড ডাউন। রবি ও সোমবার সাপ্তাহিক বন্ধ। আপসাইড ডাউনে বড়দের প্রবেশমূল্য মাত্র ৪০০ টাকা আর ১০ বছরের নিচের শিশুদের টিকিটের মূল্য মাত্র ২৫০ টাকা এবং তিন বছরের কম শিশুদের জন্য জায়গাটি একদম ফ্রি। তবে, ছবি তোলার জন্য আলাদা টাকা গুনতে হবে এখানে। পাঁচজনের দল কিংবা এর কম সদস্য হলে ৩০০ টাকা। আর পাঁচজনের বেশি হলে ছবি তুলতে লাগবে ৫০০ টাকা।