শিরোনাম

» কুতুবদিয়ায় পর্যটন বিকাশে সম্ভাব্যতা যাচাই

কুতুবদিয়ায় পর্যটন বিকাশে সম্ভাব্যতা যাচাই

কক্সবাজার: চট্টগ্রামের কুতুবদিয়া দ্বীপে পর্যটন স্থাপনা তৈরী এবং পর্যটন বিকাশে প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ পর্য়টন করপোরেশন। সম্প্রতি কর্পোরেশনের একটি প্রতিনিধি দলের পর এবার কুতুবদিয়া পরিদর্শন করেছেন সংস্থার চেয়ারম্যান আখতারুজ জামান খান কবির।

মঙ্গলবার (২৪ এপ্রিল) কুতুবদিয়ায় তিনি ইউএনও সুজন চৌধুরী সহ কুতুবদিয়ার এসি ল্যান্ড, ওসি, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

দ্বীপের সাধারণ মানুষ সেখানকার পর্যটন বিকাশে সরকারের কাছে একটি পর্যটন হোটেলের দাবী করেন। তারা বলেন, পর্যটকদের জন্য থাকার সুবিধা সহ অবকাঠামো বাড়ানো গেলে  দ্বীপে পর্যটকদের ভ্রমণে আগ্রহ আরো বাড়বে। পাশপাশি দ্বীপের মানুষের জীবন মান উন্নত হবে বলে মনে করেন তারা। এসময় চেয়ারম্যান জানান, হোটেল করার জন্য ঠিক সৈকতের সম্মুখে এবং বেড়ীবাঁধের ভেতরে এক একর পরিমাণ খাস জমি প্রাথমিক ভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যটন করপোরেশন অন্যান্য স্থাপনা তৈরী সহ অবকাঠামো উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে বলে্ও জানান তিনি। পরে প্রতিনিধি দলকে কুতুবদিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরিয়ে দেখানো হয়।

এর আগে গত সপ্তাহে পর্যটন করপোরেশন এর চেয়ারম্যান আখতারুজ জামান খান কবির এর নির্দেশে কুতুবদিয়ায় সংস্থার দুজন কর্মকর্তা শেখ মেহদি হাসান এবং রায়হান উদ্দিন কুতুবদিয়া পরিদর্শন করেন ।

মেহদি হাসান ট্রাভেল বিডিনিউজকে জানান, কুতুবদিয়ায় প্রাচীন ও ঐতিহাসিক বাতিঘর সহ দেশের অন্যতম বায়ু বিদ্যুত প্রকল্প এবং অবিচ্ছিন্ন ২০ কিলোমিটার বালুকাময় পরিচ্ছন্ন সৈকত রয়েছে। যা পর্যটক আকর্ষনে যথেষ্ট হলে্ও আরো নানান উদ্যোগ গ্রহণ করতে চায় পর্যটন কর্পোরেশন।

দীর্ঘদিন ধরে কুতুবদিয়া দ্বীপের গঠন প্রক্রিয়া শুরু হলেও এ দ্বীপ সমুদ্রের বুক থেকে জেগে উঠে চতুর্দশ শতাব্দীর শেষের দিকে। ধারণা করা হয়, পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষের দিকে এ দ্বীপে মানুষের পদচারণা। হযরত কুতুবুদ্দীন নামে এক কামেল ব্যক্তি আলী আকবর, আলী ফকির, এক হাতিয়া সহ কিছু সঙ্গী নিয়ে মগ পর্তুগীজ বিতাড়িত করে এ দ্বীপে আস্তানা স্থাপন করেন।

দ্বীপকে স্থানীয়ভাবে দিয়া বা ডিয়া বলা হয়। পরবর্তীতে এই দ্বীপের বয়স ৬০০ বছর পেরিয়ে গেছে। এই দ্বীপের আয়তন প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কমে গেছে এবং এখনও সাগরের ঢেউয়ের প্রভাবে ভেঙ্গে সমুদ্রে পরিণত হচ্ছে সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাগরকন্যা কুতুবদিয়া দ্বীপটি। তাই দ্বীপ রক্ষায় এবং পর্যটন আকর্ষনে এখনি উদ্যোগ নেয়ার প্রয়োজন মনে করেছে পর্যটন কর্পোরেশন।