শিরোনাম

» পানিতে ভাসছে চট্টগ্রাম শহর: সীমাহীন দুর্ভোগ

পানিতে ভাসছে চট্টগ্রাম শহর: সীমাহীন দুর্ভোগ

চট্টাগ্রাম: কয়েক ঘণ্টা বর্ষণে চট্টগ্রাম মহানগরের নিম্নাঞ্চল পানিতে ভাসছে। ফলে এই রমজানের সময় মানুষকে অন্তহীন দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে ঈদ বাজারগামী মানুষদের এখন নাভিশ্বাস চরমে। শিশু, বৃদ্ধ ও নারীদের এ দুর্ভোগ অতিমাত্রায় পোহাতে হচ্ছে।

জানা যায়, গত রবিবার সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত টানা বৃষ্টি পড়ে চট্টগ্রামে। এতে করে নগরের অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। নগরের সিংহভাগ নিচু এলাকা সোমবার সকাল ১১টা পর্যন্ত ছিল পানির নিচে। এসব এলাকার মানুষদের সীমাহীন কষ্টের মধ্যে সেহেরি খেতে হয়।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করা লঘুচাপটি মৌসুমী স্থল নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় চট্টগ্রাম জুড়ে বিরামহীনভাবে মাঝারি থেকে ভারি এবং টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। নিম্নচাপটি গত রবিবার ভোর রাতে সীতাকুন্ড উপকূল দিয়ে বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করেছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা আফজাল হোসেন বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৩৯ দশমিক ৮ মিলিলিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ৪৮ ও রাত ১২টা থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ১৬০ মিলিলিটার বৃষ্টি হয়েছে। আজ সোমবারও সারাদিন ভারি ও টানা বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা আছে।

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত রবিবারের টানা বর্ষণে নগরের অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। প্রবর্তক মোড়, মুরাদপুর মোড়, মুরাদপুর মোহাম্মদপুর এলাকা, বহদ্দারহাট, চকবাজার, ২নং গেট, হালিশহর, বাকলিয়া, নয়া বাজার, বৌবাজার, কেবি আমান আলী রোডসহ বিভিন্ন এলাকা মধ্যরাতে পানিতে তলিয়ে যায়। অবিরাম বর্ষণে এসব নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ বাসার নিচ তলা পানিতে তলিয়ে যায়।

দুর্ভোগ সঙ্গে নিয়েই রাত পার করতে হয়েছে এসব এলাকার প্রায়ই বাসিন্দাদের। বক্সির হাট সোনাপট্টি এলাকার কয়েকশ’ ঘর পানিবন্দী ছিল। তাছাড়া নগরের অন্যান্য এলাকায় কোথাও হাঁটু পানি, কোথাও কোমর পানি জমে যায়। আবার অনেক সড়ক ও উপসড়কেও দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। ফলে দুর্ভোগ, ভোগান্তি ও কষ্টময় বিড়ম্বনায় পড়তে হয় ঈদের মার্কেটগামী ক্রেতা এবং সাধারণ নাগরিকদের। এর সঙ্গে ছিল অসহনীয় যানজট।

২ নং গেট এলাকার বাসিন্দা চাকরিজীবী সুমন বলেন, গত রবিবার রাত সাড়ে ১১টায় কাজ শেষে প্রথমে যাই কাতালগঞ্জ। পানির কারণে ফিরে আসতে হয়েছে। তারপর প্রবর্তক মোড়। সেখানেও একই অবস্থা। এরপর দুই নম্বর গেটের বাদশা মিয়া পেট্রল পাম্পের সামনে পানি এবং জট। কোনো রকম ও আর নিজাম রোড  আবাসিক এলাকা হয়ে জিইসির পূর্ব মোড়, সিএন্ডবি কলোনির পানি মাড়িয়ে আলফালাহ গলির বাসায় আসি। তখনো বাসার সামনের গলিতে হাঁটু পানি।

নগরের বাদুরতলার বাসিন্দা হারুনুর রশিদ বলেন, গত রবিবার সন্ধ্যার পর থেকে মুষলধারে বৃষ্টিতে বাসার ভেতরে পর্যন্ত পানি ঢুকে যায়। রাতভর ঘুমানো দূরের কথা, উল্টো বাসার ভেতর থেকে পানি ফেলতে হয়েছে।