শিরোনাম

» আকর্ষনীয় পেশা ট্যুর গাইড

আকর্ষনীয় পেশা ট্যুর গাইড

যারা ভ্রমণ প্রিয় এবং একইসাথে চান কর্মক্ষেত্রটা হোক আনন্দদায়ক ও বৈচিত্র্যময়, তাদের জন্য ট্যুর গাইড একটি অন্যতম পছন্দের পেশা। এই পেশায় অর্থ উপার্জনের সাথে সাথে মিটাতে পারবেন আপনার ভ্রমণ পিপাসা,পরিচিত হতে পারবেন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে,উপভোগ করতে পারবেন পৃথিবীর সৌন্দর্য। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনার অভাবে অনেকের এই আকর্ষণীয় পেশায় আসতে পারেনা।

বাংলাদেশে প্রায় ২২০০ ট্রাভেল এজেন্সি রয়েছে। এই শিল্পে কাজ করে চলেছে অসংখ্য উদ্যমী তরুণ। অন্যান্য সাধারণ চাকরির চেয়ে ট্রাভেল এজেন্সিতে চাকরির কর্মপদ্ধতি ভিন্নধর্মী হয়ে থাকে। ট্রাভেল এজেন্সির কাজের ধরণ এবং ব্যবসায়িক পরিধির উপর নির্ভর করে এক একটি ট্রাভেল এজেন্সির কাজের পদ্ধতি ভিন্ন হয়ে থাকে। বাংলাদেশে ২২০০টি ট্রাভেল এজেন্সির মধ্যে শুধুমাত্র ঢাকা শহরেই রয়েছে প্রায় ১৪০০টি ট্রাভেল এজেন্সি এবং ট্রাভেল এজেন্সির সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ ট্রাভেল এজেন্সি বাংলাদেশ (এটাব)।

ট্রাভেল এজেন্সির আকার এবং কাজের পরিধির উপর নির্ভর করে ছোট বা মাঝারি ট্রাভেল এজেন্সিতে ১৫ থেকে ২০ জন এবং বৃহত্ কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী ট্রাভেল এজেন্সিতে ৫০ থেকে ৮০ জন বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করে থাকে।

আগ্রহীরা দেখে নিতে পারেন প্রয়োজনীয় কিছু পরামর্শ।

সার্টিফিকেট কোর্স:

বাংলাদেশে ট্রাভেল এজেন্সির প্রশিক্ষণ অনেক প্রতিষ্ঠানই প্রদান করে থাকে। তবে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন এবং বিমান বাংলাদেশ কর্তৃক প্রদেয় ট্রেনিং প্রোগ্রামটি একজন ব্যক্তিকে ট্রাভেল এজেন্সির শিল্পে দক্ষ ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে থাকে। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনে এই পেশা সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণটির নাম হলো, ‘ট্রাভেল এজেন্সি অ্যান্ড ট্যুর অপারেটর’। ১৮ সপ্তাহব্যাপী এই কোর্সটি করতে একজন ব্যক্তিকে ন্যূনতম এইচএসসি উত্তীর্ণ হতে হবে। ট্রাভেল এবং ট্যুরিজ্যম সেক্টরে একজন ব্যক্তিকে যথোপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই কোর্সের মাধ্যমে যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলা হয়।

ইংরেজিতে দক্ষতা :
এই পেশায় আপনাকে বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষদের সাথে কাজ করতে হবে তাই আপনাকে একাধিক ভাষায় কথা বলার দক্ষতা অর্জন করতে হবে। অন্যান্য ভাষা না জানলেও আপনাকে অবশ্যই ইংরেজিতে দক্ষ হতে হবে।

পর্যটন অঞ্চল ও পর্যটনের ধরণ নির্ধারণ:
কাজে নামার আগে আপনাকে অবশ্যই কর্মক্ষেত্র বেছে নিতে হবে। তাই যে অঞ্চলে বা দেশে আপনি কাজ করতে আগ্রহী তা নির্ধারণ করুন এবং যে ধরণের পর্যটনের সাথে সম্পৃক্ত হতে চান তা ও নির্দিষ্ট করুন।

পর্যটন অঞ্চল সম্পর্কে জানুন:
যে অঞ্চল বা দেশে কাজ করবেন ঐ জায়গা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন। যেমন ঐ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা, আবাসন ব্যবস্থা, প্রাণী জগত, আবহাওয়া, দর্শনীয় স্থান, ঐতিহাসিক নিদর্শন ইত্যাদি। ঐ এলাকায় বসবাসকারীদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানুন যেমন প্রথা,সভ্যতা-সংস্কৃতি,খাদ্যাভ্যাস ইত্যাদি।

সম্ভাব্য সমস্যা এবং সমাধানের পন্থা নির্ধারণ করে রাখুন:
ঐ এলাকায় আপনি কি ধরনের সমস্যায় পড়তে পারেন তা আগে থেকেই বিবেচনা করে নিন।সমস্যায় পড়লে কিভাবে তা সমাধান করবেন তা ও ঠিক করে নিন। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ঠিকানা, নম্বর সংগ্রহে রাখুন। যেমন: পুলিশ ফাঁড়ির নম্বর,হাসপাতালের নম্বর,এ্যাম্বুলেন্স নম্বর,হোটেল নম্বর ইত্যাদি।

ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেল কোম্পানিতে চাকরির জন্য আবেদন করুন:
আপনার পছন্দ মতো কোন ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেল কোম্পানিতে ট্যুর গাইড হিসেবে চাকরির জন্য আবেদন করুন। আপনি ব্যক্তিগত ভাবে গ্রাহক সম্পৃক্ততা করতে পারলে অবশ্য কোন কোম্পানিতে চাকরির জন্য আবেদন করার দরকার নেই।

একজন সফল ট্যুর গাইড ভ্রমণকে করে তুলতে পারে অনেক বেশি আনন্দদায়ক এবং উপভোগ্য সাথে সাথে ব্যক্তি জীবনেও হতে পারে স্বাবলম্বী।