শিরোনাম

» সিঙ্গাপুর এবং তিন ঘন্টার জেল

সিঙ্গাপুর এবং তিন ঘন্টার জেল

ভ্রমণ কাহিনী: সেই দিন ভোরে আমার ফ্লাইট।  উদ্দেশ্য সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া ভ্রমণ।  আগেও বেশ কয়েকটা দেশ ভ্রমণের সৌভাগ্য হয়েছে আমার কিন্তু এবারের ভ্রমণটা একটু অন্য রকম। যাহোক বাসা থেকে এয়ারপোর্ট এর দিকে রওনা হবার ঠিক আগ মুহুর্তে জীবনের সব থেকে খারাপ একটা খবর পেলাম। সিদ্ধান্ত নিলাম ট্যুরটা ক্যান্সেল করার । কিন্তু শেষ পর্যন্ত শুরু হল যাত্রা। ছোট ভাই তানভীর আমাকে এয়ারপোর্ট এ ড্রপ করতে এসেছে। আমার ও তানভীরের মধ্যে বেশ বিরহ বিরহ একটা ভাব চলছে। ফ্লাইট এর সময় ঘনিয়ে আসলো। তানভীরের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ছুটলাম ফ্লাইট এর দিকে। মাথা ভর্তি দুশ্চিন্তা নিয়ে প্লেনে উঠে বসলাম।

ভোরের মৃদু আলোয় বিজি 0৪৫ আকাশে ছুটলো। অনেক প্লান আছে এবারের ট্যুার টা ঘিরে। কিন্তু কোন কিছুই ভাল লাগছে না। প্লেনের জানালা দিয়ে ভোরের আকাশ দেখছি। সোনালী রঙের মেঘের মধ্যে দিয়ে বিশাল একখন্ড সোনার সুর্য্য উকি দিচ্ছে আকাশপানে। মনে হচ্ছে ভিনগ্রহের মধ্যে দিয়ে আমাদের প্লেনটা ছুটে চলছে অজানায়।

না কোন কিছুই ভাল লাগছে না। বউ বাচ্চাটার কথা মনে হচ্ছে খুব। মোবাইল থেকে ছেলেটার ছবি বের করে কিছুক্ষণ দেখে নিলাম। প্লেনের জার্নিটা সব সময়ই মনে হয় একবার উপরে উঠলে নিচে নামার কোন গ্যারান্টি নাই। নানা ভাবনার মধ্যে দিয়ে একসময় বিজি 0৪৫ চাঙ্গি‘র মাটি ছুলো। তখন সিঙ্গাপুরের স্থানীয় সময় বিকাল প্রায় ৩টা।

প্লেন থেকে নামবার পরে চেকিং শেষে ইমিগ্রেশন লাইন এ দাড়িয়েছি অফিসিয়াল প্রসেসিং এর জন্য। আমি ভুলবশত ইমিগ্রেশন পেপারে কোথায় থাকবো উল্লেখ্য করতে ভুলে গিয়েছি। তাই ইমিগ্রেশন অফিসার আমাকে লাইনের পিছনে গিয়ে কাগজটা পূরন করে আনতে বললেন। আমি সে সময় ঠিক ফ্রেন্ড এর বাসায় ঠিকানা জানতাম না। বন্ধু রাজ্জাকের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্ট করতে লাগলাম।

উন্নত দেশের এয়ারপোর্টে একটা সুবিধা আছে সহজেই লোকাল কল করা যায়। অবশেষে রাজ্জাক কে ফোনে পেলাম। ওর কাছ থেকে ইনফরমেশন নিয়ে ইমিগ্রেশন পার হলাম।

ও হ্যা রাজ্জাক অফিসের কাজে আটকে পড়ায় ওর আসতে ঘন্টা দেড়েক লেট হবে। আমি একা একা চাঙ্গি এয়ারপোর্ট ঘুরে ঘুরে দেখছি। হঠাৎ আবিস্কার করলাম আমার ওয়ালেট মিসিং। মাথায় আকাশ ভেংগে পরলো। সব ডলার টাকা পয়সা ও কিছু জরুরী কাগজ ওয়ালেটে।

মনে মনে একটা সাহস তৈরী করছি যাই হোক শেষ পর্যন্ত বন্ধু রাজ্জাক তো আছেই। ঘন্টাখানেক পর রাজ্জাক আসলো। ওকে দেখেই বুকের উপর দিয়ে একটা শিতল বাতাস বয়ে গেল। রাজ্জাকের গাড়ীতে রওনা হলাম এয়ারপোর্ট থেকে। এখনও রাজ্জাককে বলা হয়নি ওয়ালেট খুয়েছি। মনে মনে ভাবছি ও ব্যাপারটা কি মনে করবে। এয়ারপোর্ট থেকে রাজ্জাকের বাসার দুরত্ব ঘন্টা খানেকের। বাসার দিকে যাচ্ছি আর নতুন জায়গা অবলোকন করছি আর পিছনের কথা ভাবছি। না বন্ধুকে ওয়ালেটের ব্যপারটা যানানো দরকার। বল্লাম দোস্ত এয়ারপোর্ট এ ওয়ালেট হারিয়েছি। রাজ্জাক গাড়ী ব্রেক করে স্টেইট আমাকে একটা ধমক দিয়ে বলল আগে কইবা না?

কথা শেষ না হতেই দোস্ত গাড়ী ঘুড়িয়ে ফেলেছে। আমরা আবার এয়ারপোর্ট এ ঢুকলাম। রাজ্জাক আমাকে ইনফরমেশন বুথে নিয়ে গেল। সব বলার পর বুথ থেকে বললো ভিতরে একটা পুলিশ ষ্টেশন আছে ওখানে যেতে। শুধু আমার যাবার পারমিশন মিললো। আমি পুলিশ ষ্টেশন ঢুকলাম। ওরা আমাকে যেভাবে অভ্যার্থনা জানালো মনে হল শশুরবাড়ী আসছি। মুগ্ধ হলাম।

এক মহিলা অফিসার তার ডেক্সের সামনের বসিয়ে বললো স্যার দয়া করে বলুন আপনাকে কি ভাবে সাহায্য করতে পারি। আমি ডিটেইল বল্লাম। অফিসার শুধু জানতে চাইলো তোমার ওয়ালেট কোন এরিয়াতে হারিয়েছে বলে মনে করো তুমি। আমি বল্লাম প্লেন, চেকিং, ইমিগ্রেশন এই তিন জায়গাতে হারাতে পারে। অফিসার বললো প্লিজ গিভ মি ১০ মিনিটস।

মিনিট দশেক পর একটা কল আসলো অফিসারের ফোনে। লোকাল ভাষায় কিছুক্ষণ কথা চললো তাদের। পরে আমাকে অফিসার জানালো, আমরা শিওর হয়েছি প্লেনের মধ্যে তোমার ওয়ালেট পরে নাই। বাকি দুইটা জায়গা খোজ নিতে আমাদের একটু সময় লাগবে। তোমার ডিটেল নোট করে যাও আমরা তোমার সব ধরনের আপডেট জানাবো। আমি ফোন নাম্বার দিয়ে চলে আসলাম।

ফ্রেন্ড এর বাসায় পৌছাতে বেশ রাত হয়ে গেল। এর মধ্যে এয়ারপোর্ট থেকে মাঝে মাঝেই ফোন দিয়ে নানা রকমের ইনফরমেশন নিচ্ছে। আমিতো আশা ছেড়েই দিয়েছি। ফ্রেশ হয়ে ডিনার শেষে বিছানায় শরিরটা এলিয়ে দিলাম। ভীষন ট্রায়ার্ড । বন্ধুকে বল্লাম একটু রেস্ট নিয়ে পরে তোমার সাথে আলাপ হবে।

ঘড়ির কাটা রাত প্রায় ১২টা ফোনে একটা কল আসলো-তুমি কি শাহিন? ইয়েস…তোমার ওয়ালেট পাওয়া গেছে…কষ্ট করে আমাদের অফিসে এসে তোমার ওয়ালেট কালেক্ট করো প্লিজ। মাই গড তখনকার ফিলিংসটা বোঝাতে পারবো না। বন্ধুর সাথে আবার দৌড় শুরু করলাম এয়ারপোর্ট এর দিকে। ইনফরমেশন বুথের দিকে এগিয়ে যেতেই একজন সুন্দরী ললনা জিজ্ঞেস করল আপনাদের কিভাবে সাহায্য করতে পারি। ওয়ালেটের কথা বলায় সে আমার পাসপোর্ট চাইলো। কম্পিউটারে তথ্য যাচাই করে একটি খাম দিলো আমার সামনে। তাতে দেখলাম আমার ওয়ালেটের সমস্ত জিনিস বের করে আলাদা আলাদা প্যাকেটে রাখা হয়েছে। মেয়েটা বলল দেখ সব ঠিক আছে কিনা। আমি এক নজরে সবকিছু একবার স্ক্যান করে নিলাম। দেখলাম সব ঠিকঠাক।

মেয়েটিকে ধন্যবাদ দিয়ে ফেরার সময় সে আমাকে তার ভাষা দুটা লাইন বললো যাহার ট্রানসলেট করলে সুন্দর বাংলা দাড়ায়- তুমি কি একটা ভুদাই…! আশা করি পরবতির্তে নিজের জিনিসের প্রতি নজর দিবে!…তার মধুর বানী শুনে কানটা দিয়ে একটু ধোয়া বের হয়ে গেল । কিন্তু ওয়ালেট ফিরে পাবার আনন্দ তাহা আর বেশীক্ষণ স্থায়ী হইল না।

পরের দিনগুলো বন্ধু রাজ্জাক ও তার রুমমেটদের আন্তরিকতায় ভাল কাটল। সিঙ্গাপুরের টুরিস্ট এরিয়াগুলো ঘুরে দেখা হল। শহরগুলো অনেক বেশী কৃত্তিমতায় ভরা। প্রকৃতির তেমন কিছু নেই এখানে যা আছে সবই মানুষের তৈরী। তবে যান্ত্রিকতা থাকলেও নিশ্বাস নেবার পর্যাপ্ত যায়গা আছে। সিঙ্গাপুর দর্শনের পর আমার নানীর একটা বানী মনে পড়ে গেল- তিনি প্রায়শই একটা কথা বলিতেন- “এক মূখ সোনা দিয়ে ভরা সহজ, কিন্তু একশ মূখ ছাই দিয়ে ভরাও কঠিন”।

আসলে সিঙ্গাপুর খুব ছোট্ট একটা দেশ যার কারণে এরা দেশটাকে ইচ্ছে মতো সাজাতে পেরেছে। সবাই খুব নিয়ম নীতি ফলো করে। যে কয়দিন ছিলাম রাস্তায় একটি পুলিশও চোখে পড়ে নাই। অথচ আমার দেশে এখন অর্ধেক জনগণ আর অর্ধেক পুলিশ।

যাহোক সিঙ্গাপুর ভ্রমনের এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিলাম বন্ধু রাজ্জাকের সাথে ইন্দোনেশিয়ায় একটা ঢু দেব। সময়টা তখন ২০১৭ ডিসেম্বরের ৪ তারিখ দুপুরে আমরা ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশ্য রওনা হলাম। আমাদের পরিকল্পণা সোনতেশা ফেরী টার্মিনাল দিয়ে সুমদ্র পথে ইন্দোনেশিয়ার বাথাম এ যাব।

শুরু হল সুমদ্র যাত্রা। সুমদ্র পথের এই যাত্রাটা মনে রাখবার মত। মনে হল স্বর্গের মধ্যে দিয়ে আমাদের জলযান এগিয়ে যাচ্ছে সামনের দিকে। মাঝে মাঝে জাহাজের জানালা দিয়ে লোনা পানির ঝাপটা এসে শরির টাকে শিতল করে যাচ্ছে। সন্ধ্যার কিছুটা আগেই পৌছালাম বাথাম এ।

ইন্দোনেশিয়ার টাকার মান খুবই কম। আমরা ২০০ ডলার এক্সচেঞ্জ করে মোটামুটি ৩০ লাখ ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়া পেলাম। অল্প সময়ে জন্য মনে হল ৩০ লাখ পকেটে নিয়ে ঘুরতেছি। এতো টাকা হিসাব রাখা মুশকিল। বন্ধুর পরিচিত ড্রাইভার স্যামুয়েল আমাদের জন্য অপেক্ষায় ছিল। তার গাড়ীতে উঠে বসতেই সে আমাদের একটা সিমসাম হোটেল এ নিয়ে আসলো। স্যামুয়েল বলল রাতে হোটেলেই অবস্থা করতে। বাহিরে রাতের বেলায় ক্রাইমের শিকার হবার সম্ভাবনা আছে এজন্য না বের হওয়াই ভাল।

আমরা ডিনার খেয়ে ক্লান্ত শরীরে ঘুমিয়ে পরলাম। পরের দিন সকাল ৭টায় স্যামুয়েল এর ফোন এ ঘুম ভাংলো। আমরা হোটেল থেকে নাস্তা খেয়ে বেড়িয়ে পরলাম ঘোরার উদ্দেশ্য। বাথাম ইন্দোনেশিয়ার বেশ বড় একটা দ্বীপ শহর। যেদিকেই যাই সেদিকেই সুমদ্র। ব্যাক্তিগত ভাবে সিঙ্গাপুরের থেকে বাথাম খুব ভাল লাগলো। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। সব থেকে মজার ব্যপার হল সবকিছু অনেক সস্তা। আমরা দুপুর পর্যন্ত বাথামের ভাল লোকেশানগুলো ঘুরে ঘুরে দেখলাম। পরে একটি সি-ফুড হোটেল এ গিয়ে দুপুরের খাবার খাওয়ার প্লান করলাম।

সব জেন্ত সুমদ্রের মাছ, ঝিনুক, কাকড়া। রান্নাও অসাধারণ। আমরা ভালমত পেট পূজো শেষে রওনা হলাম সিঙ্গাপুরের দিকে। আসবার সময় বাথাম পোর্টের ডিউটি ফ্রি শপ থেকে বন্ধুর বাসার রুমমেটদের জন্য উপহার হিসাবে এক বোতল উয়াইন কিনলাম। এখানেই ঘটলো দূর্ঘটনা।

যখন সিঙ্গাপুরে আবার ব্যাক করে পোর্টের চেকিং এর জন্য নিজের ব্যাগপ্যাকটা মেশিনে ঢুকালাম তখন ডিউটি আফিসার আমাকে সাইড এ দাড় করিয়ে জিজ্ঞেস করলো তোমার ব্যাগে কি পানির বোতল? আমি বল্লাম না ব্যাগপ্যাকে একটা উয়াইন এর বোতল আছে? অফিসারঃ- বোতলটা কি ইউজ করা? আমি বল্লাম না ইনটেক? অফিসার একজন পুলিশ কে ইশারা করলো আর আমার পাসপোর্ট এবং ওয়াইন এর বোতল নিয়ে চলে গেল।

কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই অন্য পুলিশ অফিসার আমাকে নিয়ে পোর্টের লকাপে ঢুকিয়ে দিল। ছোট্ট একটা রুম এক ফাক দিয়ে কিছুটা আলো এসে মুখে উপর পড়ছে। মাথা তখন জগতের নানা চিন্তা ভর করছে। ভাবছি এখন কি হবে। ও হ্যা এর মধ্যে ফোন সিস হয়েছে। এখানে ঢুকবার আগে এক পলক বন্ধুকে দেখেছিলাম পোর্টের বাহিরে অসহায় ভাবে দাড়িয়ে থাকতে। মিনিট বিশেক পর আমার মত আর এক আমেরিকান কে ঢুকালো। সে একবারই স্মার্টলি আমার দিকে তাকিয়ে হাই বললো। বাকি সময়ে তার আর কোন আওয়াজ পেলাম না। ঘন্টা দুয়েক পর একজন এসে আমাকে ডেকে কাস্টম অফিসে নিয়ে গেল। একজন মহিলা অফিসার।

দেখে ইন্ডিয়ান মনে হল। বয়স ঠিক বোঝা না গেলেও ড্যাম স্মার্ট তিনি। তার সামনের চেয়ারে বসিয়ে আমাকে জেরা শুরু করলো। তুমি কি প্রথমবার সিঙ্গাপুর এসেছ? জ্বী।  তুমি কি সিঙ্গাপুরের আইন সম্পর্কে জেনে আস নাই? অল্প আইডিয়া আছে ম্যাম। ওকে ফাইন, তুমি কি জানোনা বাহিরের কোন দেশ থেকে সিঙ্গাপুরে যে কোন ধরনের মাদক নিয়ে ঢোকা সম্পূর্ণ বে-আইনী? জ্বী জানি ম্যাম বাট আমিতো ডিউটি ফ্রি শপ থেকে কিনেছি। হ্যা বাট সেটা তো সিঙ্গাপুরের ডিউটি ফ্রি শপ থেকে না।

আরো নানা প্রশ্ন…উফফফ মহিলাতো আমাকে সব দিক থেকে আটকাচ্ছে। জিজ্ঞেস করলাম তাহলে এখন আমার করনীয় কি? উনি জানালেন তোমাকে ২১৪ ডলার ফাইন করা হয়েছে। এটা দিয়ে তুমি যেতে পারো। কি আর করা না যেনে পরেছি ফাঁদে। এবার একটু নরম সুরে তাকে উদ্দেশ্য করে বল্লাম- তোমার দেশের আইনের প্রতি আমি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল।

যেহেতু তোমার দেশে আমি প্রথমবার এসেছি সেহেতু এই ব্যাপারটা আমার কাছে একদমই অজানা…ইত্যাদি ইত্যাদি। মহিলা চোখ বাঁকা করে বললেন-কেন আমরা যে সব যায়গাতে বড় বড় বিলবোর্ডে এই বিষয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার করে থাকি তা কি তুমি খেয়াল করো নাই? আমি বললাম নো ম্যাম। কথার এক পর্যায়ে মহিলাটা তার জীবনের প্রথমে হাসিটা আমার সামনে হাসলেন তাও মৃদু স্বরে।

এবার আমাকে তার সাথে যেতে বললেন। আরেকটা অফিসে ডুকে অন্য এক অফিসারকে আমার পাসপোর্ট ও একটা পেপার দিয়ে কিছু একটা বললেন। অফিসার কিছুটা ক্যালকুলেশন এর পর একটা পেপার প্রিন্ট করে হাতে ধরিয়ে দিল। এবার মহিলা আমাকে বলল তোমার ব্যবহারে আমার টীম খুশি। সঠিক তথ্য দিয়ে আমাকে সাহায্য করবার জন্য ধন্যবাদ। তোমার ফাইন ২০০ ডলার মাইনাস করে শুধু ১৪ ডলার করা হয়েছে। এটা পে করে তুমি যেতে পার।

আমি একখানা চিতই হাসি দিয়ে সাথে সাথে মানিব্যাগ থেকে ডলার বের করে দিয়ে ম্যাম কে একটা লম্বা ধন্যবাদ জানালাম। উনি এবার সম্পূর্ন আলাদা একটা মানুষ হিসাবে দিল খোলা একটা হাসি দিয়ে বললেন আমার সার্ভিস তোমার কেমন লাগল? আমিও দাঁত কেলিয়ে বল্লাম খুব ভাল ম্যাম। মহিলা এবার আর একটা পেপার আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন তাহলে আমার সার্ভিস যে তোমার ভাল লেগেছে এখানের একটা নোট দিয়ে যাও আর তোমার কাছ থেকে ফাইভস্টার গ্রেড আশা করছি। তার গ্রেড হাই করবার নোট দিতে গিয়ে আমার জীবন থেকে আরো যন্ত্রণাদায়ক ২০টা মিনিট নাই হয়ে গেল।

এই পূরোটা সময় আমার বন্ধু বাহিরে আমার জন্য অপেক্ষায় দাড়িয়ে। বাংলাদেশ হলে হয়তো বন্ধু পুলিশকে ঘুসটুষ দিয়ে কিছু একটা করবার চেষ্ট করতো। বাট এটা এখানে করতে গেলে উল্টো কেস খেয়ে যেত। এই তিনটা ঘন্টায় জীবনের কাছ থেকে অনেক শিক্ষা গ্রহণ করলাম।

জানলাম প্রফেশনালিজম কি! সিঙ্গাপুরের পরের সময়গুলো ভাল মন্দ দিয়েই কেটে গেল। এই ভ্রমন শেষে আমার অভিজ্ঞতা…শুধু মাত্র রাজনৈতিক অস্থিরতা বাদ দিলে আমার দেশটা সত্যিই সোনার দেশ।

লেখক, শাহীন শেখ

সিনিয়র ভিজু্য়্যাল এডিটর, জিটিভি