ঢাকা: ইউএস-বাংল এয়ারলাইন্সের একটি বিমান ঢাকা টু চেন্নাই যাওয়ার পথে এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন যাত্রীরা। ঢাকা থেকে চেন্নাই এর পথে সকাল ১০:৪৫ এ বিমান ছাড়া আর কথা থাকলেও তা নির্ধারিত সময়ের আধঘন্টা পরে ছেড়ে যায়। ভোগান্তিতে পড়া যাত্রীরা কর্তৃপক্ষের কাছে কারণ জানতে চাইলে তাদেরকে বিভিন্ন অজুহাতে বিমানে বসিয়ে রাখেন ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ। তবে যাত্রীদের কাছে কয়েকটি কারণ ব্যাখ্যা করেন তারা । তবে বিমানটি ছয়টা ১৬ তে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে গেলেও যাত্রা পথের প্রায় চার ঘন্টা কোন এসি এবং ফ্যান ছাড়া আকাশে ওড়ে বিমানটি। চেন্নাইতে চিকিৎসা নিতে যাওয়া বিভিন্ন রোগীরা এ সময় ভোগান্তিতে পড়েন। বিমানটির এক যাত্রী তার ফেসবুকে স্ট্যাটাসে চারটি ভিডিও আপলোড করলে এ নিয়ে তোলপাড় হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সেখানে তিনি যাত্রীদের ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন। তার ফেসবুকে স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

আজ এক ভয়ংকর বাজে অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলাম
#US_Bangla_Airlines এর ঢাকা-চেন্নাই গামী ফ্লাইটে। সকাল ১০:৪৫ তে বিমান ছাড়ার কথা, সেই বিমান ছেড়েছে সন্ধ্যা ৬:১৬ তে। সেটাও সমস্যা ছিলোনা তবে জ্ঞাতার্থে জানাই দেরীর কারণ হিসেবে তারা জানায় :
১.বৈরী আবহাওয়ার অযুহাত দেওয়া হয়েছে (অথচ সকালের শুরুতে না হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে একটু পর পর অনেক গুলো বিমান ছেড়েছে, এটা বাদে)
২.এরপরে বিমান নাকি দুবাই থেকে ঢাকা না এসে সিলেটে ল্যান্ড করেছে কারণ বিমানের টেকনিক্যাল সমস্যা
৩.তারপরে খবর আসলো বিমানে ফুয়েল সংকট
এইসব ও না হয় ক্ষমার যোগ্য অপরাধ, বৈরী আবহাওয়ার অযুহাতে কিন্তু এরপর তো বাকি রইলো আসল ভোগান্তি। তারা বিকাল ৪:৪০ এর মধ্যে সবাইকে বিমানে উঠিয়ে, বিমান ছাড়ে সন্ধ্যা ৬:১৬ তে। বিমান চেন্নাই পৌছায় রাত ৮:৩০ এ। আর সেই ৪:৪০ থেকে ৮:৩০ অবধি এক সেকেন্ডের জন্য এসি চলেনি, ফ্যান চলেনি। অথচ এই বিমানের ম্যাক্সিমাম যাত্রীই রোগী এবং তার সঙ্গী এটেনডেন্ট। বিমান ভর্তি বয়োবৃদ্ধ রোগী, বাচ্চা রোগী। কেউ ক্যান্সার-কেমোর রোগী,কেউ হার্টের রোগী, কেউ স্ট্রোকের রোগী। এই বয়স্ক আর বাচ্চা দের যে কি ভীষণ কষ্ট হয়েছে পুরো সময়টায়। এটেনডেন্টদের দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা বাদ দিলাম। সারাক্ষণ এই বাচ্চাগুলো কেদেছে, বয়স্ক মানুষেরা অস্থিরতা করেছে, আর আমরা দম বন্ধ করা গরমে হাসফাস করেছি, এজম্যার রোগী হওয়ায় প্রচণ্ড শ্বাসকষ্টে ছটফট করেছি। অক্সিজেন নিতে হয়েছে( অক্সিজেন চাওয়ার এক ঘণ্টা পরে সেটা প্রভাইড করেছে) রীতিমতো গোসল করার মতো ভিজেছি ঘামে, সমস্ত শরীর ভিজে একাকার হয়েছে। হিজাব নিকাব পরিহিত নারীদের বেগতিক অবস্থার কথা নাই বলি, ভীষণ কষ্ট পেয়েছে এই দম বন্ধ করা অস্বস্তির গরমে।
আর এদিকে একের পর এক মিথ্যাচার করে গেছে ইউ এস বাংলা কর্তৃপক্ষ। সারাক্ষণ বলে গেছে, এসি ৫ মিনিট পরে চালু হবে অথচ সেই এসি শেষ অবধি একবারের জন্য ও চালু হয়নি। ব্যক্তিগত ভাবে কেবিন ক্রুদের সাথে কথা বলে জেনেছি, বিমান ছাড়ার আগেই তারা জানতো এসি নষ্ট, তারা যাত্রীদের ৪:৪০ থেকে ৬:১৬ অবধি ফ্যান-এসি বিহীন বিমানে বসিয়ে চেষ্টা করেছে এসি ঠিক করার!! (কি দু:সাহস!!) আর তারপর যখন দেখেছে এই সমস্যা অল্প সময়ের সমাধান সম্ভব নয় , তারা সিদ্ধান্ত নেয় চেন্নাই থেকে ঢাকায় ফিরে এই এসি ঠিক করবে। তাই বিমানের এসি সংক্রান্ত সমস্যার কথা যাত্রীদের কিছু না বলেই বিমান ছেড়েছে এবং পরবর্তীতে একের পর এক মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে… আর ৫ মিনিট পর এসি চালু হবে, একটু পরেই এসি চালু হবে বলে অপেক্ষা করিয়েছে, এসব প্রতারণা ছাড়া আর কি?
আমার প্রথম প্রশ্ন- দরজা-জানালাবিহীন এই বিমানে যদি এসির মতো ব্যাসিক ম্যান্ডাটরি সার্ভিসটুকু ও না থাকে যাত্রী রা সারভাইভ করে কিভাবে?
দ্বিতীয় প্রশ্ন- একটাকা কম পেমেন্ট করলে তো টিকিট পেতাম না, তাহলে এক সেকেন্ডের জন্য ও কেনো বাতাস পাবো না?

তৃতীয় প্রশ্ন-একই গন্তব্যের জন্য আরেকটি বিকল্প বিমানের ব্যবস্থা করা হলো না? সেটাও সম্ভব না হলে কেনো ফ্লাইট বাতিল করা হলো না? অসুস্থ রোগীদের এতো অসহ্য কষ্ট কেনো দেওয়া হলো? রোগীকে সেবাদানকারী এটেনডেন্টদের কেও কেনো রোগী বানিয়ে দেওয়া হলো?
চতুর্থ প্রশ্ন-সামান্যতম জবাবদিহি তারা কেনো করলো না? কেনো একের পর এক মিথ্যা বলেই গেলো? যাত্রীদের টাকা নিয়েও এমন হয়রানি করার ক্ষতিপূরন তারা কেনো দেবে না? ফ্রি কোনো সার্ভিস তো এটা ছিলো না যে যাচ্ছে তাই করা যাবে? রোগীদের কথা চিন্তা না করে, কেনো নিজেদের লাভ লোকসানের কথাই তারা ভাবলো? প্রথমে ৭/৮ ঘণ্টার একটা দীর্ঘ ফ্লাইট ডিলের পর কেনো বিমানে চড়ার অভিজ্ঞতা ও এতো বাজে হবে?
এসব প্রশ্নের উত্তর এই বঙ্গদেশে নাই, পাওয়া যাবেনা কারণ এদেশে স্বছতা শব্দটি কেবল থাকে ডিকশনারিতে। এসব হয়রানির জবাবদিহিতাই নেই, আর বিচার চাইবো কার কাছে?
সামিয়া শতাব্দীর ফেইসবুক ওয়াল থেকে।