ঢাকা: রেলের অনলাইন টিকেট সাধারণ যাত্রীর জন্য উন্মুক্ত হওয়ার আগেই তা ব্লক করে রাখার সুযোগ রয়েছে ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের অ্যাডমিন ড্যাশবোর্ডে। পরিবহন অডিট অধিদপ্তরের আইটি অডিটে এমন তথ্য উঠে এসেছে। অডিট বলছে, রেলের টিকেট অপারেশনে চুক্তির শর্ত ভেঙে ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান সহজের কর্মীদের সরাসরি যুক্ত রাখায় কালোবাজারির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
রেলের টিকেট পেতে অনলাইনে যাত্রীদের ভোগান্তি নতুন নয়। কিন্তু টিকেট সাধারণের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার আগেই যদি তা ব্লক করার সুযোগ থাকে, তাহলে প্রশ্ন ওঠে পুরো টিকেটিং ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। পরিবহন অডিট অধিদপ্তরের আইটি অডিটে দেখা গেছে, ই-টিকেটিং সিস্টেমের অ্যাডমিন ড্যাশবোর্ড থেকে ট্রেনের টিকেট সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার ১ থেকে ৫ দিন আগেই প্রয়োজনীয় সংখ্যক টিকেট ব্লক করা সম্ভব।
অডিট টিম চট্টগ্রাম ও সিলেট স্টেশনে ব্যবহৃত অ্যাডমিন ড্যাশবোর্ড পরীক্ষা করে। সেখানে ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান সহজ লিমিটেডের প্রতিনিধিদের সক্রিয় ইউজার পাওয়া যায়। সিলেট স্টেশনের ড্যাশবোর্ডে রি-পারফর্ম করে অডিট টিম দেখতে পায় ‘ওপেন ফর অল’ কোটা থেকে ‘অনলি ফর অফলাইন’ কোটায় টিকেট সরিয়ে ব্লক করা সম্ভব।
অডিটের পর্যবেক্ষণ, সিস্টেমের এই নিয়ন্ত্রণ ঘাটতি কাজে লাগিয়ে ভেন্ডর প্রতিনিধি ও রেলওয়ের বুকিং সহকারীর যোগসাজশে যেকোনো রুটের টিকেট কালোবাজারির সুযোগ তৈরি হতে পারে। আরও গুরুতর বিষয়, অ্যাডমিন ড্যাশবোর্ডে সম্পন্ন কাজের পূর্ণাঙ্গ অ্যাক্টিভিটি লগ বা অডিট লগ দেখার সুযোগ নেই। ফলে কে কখন কত টিকেট ব্লক বা রিলিজ করেছে, তা শনাক্ত করা কঠিন।
চুক্তি অনুযায়ী ভেন্ডরের কর্মীদের কাজ ছিল হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার ও নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণ। টিকেট বিক্রি, আসন সংরক্ষণ, কোটা সমন্বয়, টিকেট ব্লক বা রিলিজের মতো অপারেশনে তাদের যুক্ত হওয়ার কথা নয়।
কিন্তু অডিটে পাওয়া গেছে, বিভিন্ন স্টেশনের প্রায় ১৬৯টি অ্যাডমিন অ্যাকাউন্ট সহজের কর্মীরা পরিচালনা করছেন।
রেলের টিকেটিং ব্যবস্থায় ভেন্ডর কর্মীদের এই সরাসরি নিয়ন্ত্রণের সুযোগই কালোবাজারির ঝুঁকি বাড়িয়েছে বলে মনে করছে পরিবহন অডিট অধিদপ্তর। এখন প্রশ্ন—সাধারণ যাত্রীর জন্য নির্ধারিত টিকেট সত্যিই কখন, কীভাবে এবং কার নিয়ন্ত্রণে উন্মুক্ত হচ্ছে?