সর্বশেষ:

» ভোটার আইডিতে রেলের টিকেট; তথ্য পাচার হচ্ছে সিঙ্গাপুরে

ভোটার আইডিতে রেলের টিকেট; তথ্য পাচার হচ্ছে সিঙ্গাপুরে

ঢাকা: রেলের টিকিট কিনেছেন ,তথ্যও চলে গেছে দেশের বাইরে! আপনার নাম, মোবাইল নম্বর, এনআইডি কিংবা জন্মনিবন্ধন নম্বর, ই-মেইল, ভ্রমণ ইতিহাস এমনকি আর্থিক লেনদেনের তথ্যও।

পরিবহন অডিট অধিদপ্তরের আইটি অডিট বলছে, রেলের ই-টিকেটিং সিস্টেমের প্রায় ৮৫ লাখ সেবাগ্রহীতার মূল ডেটাবেজ রাখা হয়েছে দেশের বাইরে আমাজন ওয়েব সার্ভিসেসের সিঙ্গাপুর রিজিয়নে।

আরও উদ্বেগের বিষয়, এই ডেটাবেজে দেশের সাধারণ নাগরিকের পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা, সামরিক ও গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যদের ভ্রমণ-সংক্রান্ত তথ্যও থাকার কথা বলছে অডিট।

রেলের টিকিট কিনতে গিয়ে একজন যাত্রী যে তথ্য দেন, তা শুধু টিকিট কাটার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। নাম, মোবাইল নম্বর, এনআইডি বা জন্মনিবন্ধন নম্বর, ই-মেইল, ভ্রমণ ইতিহাস—এর সঙ্গে যুক্ত হয় আর্থিক লেনদেনের তথ্য। এই বিপুল তথ্যের নিরাপদ সংরক্ষণের দায়িত্ব বাংলাদেশ রেলওয়ের। কিন্তু পরিবহন অডিট অধিদপ্তরের আইটি অডিটে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র।

অডিটে দেখা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের নিজস্ব ডেডিকেটেড ডেটা সেন্টারেই নেই বিআরআইটিএসের মূল ডেটাবেজ। রেল ভবনের ডেটা সেন্টারে রয়েছে এনআইডি যাচাইয়ের স্টেজ সার্ভার। অথচ ই-টিকেটিংয়ের মূল সিস্টেম ও ডেটাবেজ রাখা হয়েছে আমাজন ওয়েব সার্ভিসেসের ভার্চুয়াল প্রাইভেট ক্লাউডে, সিঙ্গাপুর রিজিয়নে।অডিটের পর্যবেক্ষণ এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন নেওয়া হয়নি।

প্রশ্ন শুধু তথ্য কোথায় রাখা হয়েছে, তা নিয়ে নয়। এই ডেটাবেজে রেলের সাধারণ যাত্রীর পাশাপাশি দেশের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, সামরিক ও গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যদের ভ্রমণ-তথ্যও থাকার কথা উঠে এসেছে অডিটে।

অর্থাৎ একজন ব্যক্তি কোথায় গেছেন, কখন গেছেন—এমন তথ্যও রয়েছে এই ব্যবস্থায়। আর এই তথ্য বিদেশি ক্লাউডে থাকার কারণে হ্যাকিং বা তথ্য ফাঁস হলে পরিচয় চুরি, আর্থিক প্রতারণা এবং সাইবার অপরাধের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা অডিটের।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই। রেলের ই-টিকেটিং সিস্টেমে ইউজার রেজিস্ট্রেশনের সময় নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সিস্টেমের এপিআই ব্যবহার করা হয়েছে।

অডিট বলছে, তৃতীয় পক্ষের একটি ভেন্ডরের মাধ্যমে । অর্থাৎ রেলের ই-টিকেটিং ব্যবস্থায় শুধু টিকিট বিক্রির তথ্য নয় নাগরিকের পরিচয় যাচাইয়ের অবকাঠামোও যুক্ত হয়েছে তৃতীয় পক্ষের ব্যবস্থার সঙ্গে। অডিটে এ ধরনের ব্যবস্থাপনায় তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

আর মূল ডেটাবেজ দেশের বাইরে থাকায় কোনো ভূ-রাজনৈতিক সংকট কিংবা ক্লাউড সেবাদাতার নীতিতে আকস্মিক পরিবর্তন এলে রেলের টিকিটিং ব্যবস্থা অচল হওয়ার ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেছে অডিট।

পরিবহন অডিট অধিদপ্তর বলছে, দেশের বাইরে তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি। তারপরও অডিট প্রতিবেদন জমা পড়ার পর এখন পর্যন্ত কী ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে সেটিই বড় প্রশ্ন। রেলের টিকিট কিনতে গিয়ে একজন নাগরিক তার পরিচয় ও আর্থিক তথ্য দিয়েছেন রাষ্ট্রীয় একটি সেবাব্যবস্থায়।

কিন্তু সেই তথ্যের মূল ডেটাবেজই যদি থাকে দেশের বাইরে তাহলে প্রশ্ন শুধু সাইবার নিরাপত্তার নয়; প্রশ্ন নাগরিকের তথ্যের মালিকানা, নিয়ন্ত্রণ এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার।