ঢাকা: হিসেবে গণ্য করা হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এর উপর ২৫ শতাংশ হারে প্রযোজ্য কর হবে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা। তবে জরিমানাসহ তা প্রায় চার কোটি টাকা হবে, যা এই করদাতা ফাঁকি দিয়েছেন বলে ধারণা করছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এছাড়া করদাতা নিরঞ্জন ঘোষ রিটার্নে যে মৎস্য আয় দেখিয়েছেন, তার স্বপক্ষে কোনো প্রমাণাদি নেই।
অনুসন্ধানে আরো দেখা গেছে, শুধু ২০২৪-২৫ করবর্ষ নয়, করদাতা নিরঞ্জন ঘোষ ও তার স্ত্রী অন্তরা ঘোষ একইভাবে ২০১৯-২০, ২০২০-২১, ২০২১-২২, ২০২২-২৩, ২০২৩-২৪ করবর্ষেও একইভাবে ব্যাংক হিসাবের ব্যালেন্স শূন্য দেখিয়ে আসছেন। এই ছয় করবর্ষের রিটার্ন যাচাই করা হচ্ছে। এছাড়া ব্যাংক থেকে এই দুই করদাতার আরো তথ্য সংগ্রহ করতে ব্যাংকে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং এই দুই করদাতার সব ব্যাংক হিসাব স্থগিত (ফ্রিজ) করা হয়েছে। করদাতা নিরঞ্জন ঘোষ এর খিলগাঁও এলাকায় এএএ প্লাস এক্সেসরিজ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সর্বশেষ ২০২৩-২৪ করবর্ষে নিরঞ্জন কোন এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে আয় দেখিয়েছেন প্রায় ৭ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। এই দুই করদাতার অন্যান্য আয়, ব্যাংকের তথ্য ও কি পরিমাণ সম্পদ রয়েছে-তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অপরদিকে, এফডিআরের তথ্য রিটার্নে গোপনের বিষয়টি অস্বীকার করেন নিরঞ্জন ঘোষ। তিনি বলেন, আমি ২৫ বছর ধরে এই পেশায়। ২০২৫ সাল থেকে ব্যবসা করি। এই টাকা আমার বিজনেসের। ক্লাইন্ট, পার্টির টাকা। মাল এনে বিক্রি করি। আমাদের কাছে টাকা যখন না থাকে, এডভান্স টাকা দিয়ে তখন মাল নেয়। আমাদের তো এত টাকা নেই, দিবো কোথা থেকে? সব পার্টির টাকা। আর ‘শর্ট টাইম ডিপোজিট’ লেখাও রয়েছে। ব্যাংকে এফডিআর করে রাখার উদ্দেশ্য হলো, দুই মাস, তিন মাস সময় যদি লাগে-দুই, তিন মাসে আমি যদি ইন্টারেস্ট থেকে কিছু টাকা ইনকাম করতে পারি, তাহলে ক্ষতি কি। আমার সব ডিপোজিট শর্ট টার্ম।
তিনি আরো বলেন, আমার সব কিছু রিটার্নে দেখানো আছে। এফডিআরের তথ্য লুকাবো কেন? যদি টাকা হাইড করার উদ্দেশ্য থাকতো, তাহলে আমি টাকা ব্যাংকে রাখবো কেন? আমার এফডিআরের তথ্য রিটার্নে ‘হান্ডেড পার্সেন্ট শো’ প্রদর্শিত, অপ্রদর্শিত বলে কিছু নাই। আয়কর গোয়েন্দা প্রতিবেদন তৈরি করলে তো হবে না। সে আমার থেকে ‘এক্সপ্লেনেশন’ নেবে। এক্সপ্লেনেশন দিতে না পারলে আমার করফাঁকি নির্ধারণ করবে। উইদাউট এক্সপ্লেনেশনে আমি ফাঁকি দিলাম কি দিলাম না, সে তো বড় বিষয় না। আমার এলসি এসে বসে রয়েছে। ব্যাংক হিসাব ডি-ফ্রিজ করার জন্য আবেদন দেয়া আছে। আমার কারেন্ট একাউন্ট, বিজনেস একাউন্ট-সব আটকে রাখছে।
১১ কোটি ১৪ লাখ ৯২ হাজার টাকার এফডিআরের আয়কর গোয়েন্দা আপনার রিটার্নে দেখানো হয়নি বলে আয়কর গোয়েন্দা পায়নি। আপনি ২০১৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত রিটার্নে এফডিআর দেখানো হয়নি। এই বিষয়ে করদাতা নিরঞ্জন ঘোষ বলেন, শতভাগ এফডিআর দেখানো আছে। তবে দুই এক জায়গায় ‘মিস ম্যাচ’ থাকতে পারে, অস্বাভাবিক কিছু না।
মৎস্য আয় দেখানো হলেও কাগজপত্র নেই-এই বিষয়ে তিনি বলেন, ২০২৩ পর্যন্ত মৎস্য আয় ছিলো। ভূয়া কিছু প্রদর্শন করা হয়নি। ছোট্ট একটা প্রোজেক্ট ছিলো, ৫-৭ লাখ আয়। এখন নেই, তখন ছিলো। থাকতেই পারে। অ্যাসেসমেন্ট করা হয়েছে। সব ফাইলে আছে। কমিশনার পর্যন্ত ‘এপ্রুভাল’ নেয়া। তাহলে তারা মানছে কেমনে?
এই বিষয়ে আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুর রকিব বলেন, রিটার্নে এফডিআর দেখানো নেই। ৩০ জুনের আগে এফডিআর ভেঙ্গে ‘ব্যালেন্স শূন্য’ করা হয়। ৩০ জুনের পর আবার সেই টাকা এফডিআর করা হয়। রিটার্নে ব্যালেন্স শূন্য দেখিয়ে করফাঁকি দিতে এই নব কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন এই করদাতা। এছাড়া তিনি একজন আইনজীবী। একজন আইনজীবীর কাছে আমরা এমন আশা করতে পারি না। করফাঁকি এই নব কৌশল সামনে আসার পর আমরাও করদাতাদের রিটার্ন যাচাইয়ে আরো একটু সচেতন হবো। শুধু এই করদাতা নয়, নিশ্চয় বহু করদাতা করফাঁকি দিতে ৩০ জুনের আগে এই কাজ করেন। তবে করদাতা যত কৌশল অবলম্বন করুক না কেন, আমাদের দক্ষ কর্মকর্তার ফাঁকি উদ্ঘাটন করে ফেলতে পারবেন।