ঢাকা: চট্টগ্রামের লালদিয়ার চরে এপি মোলার কর্তৃক নবনির্মিত কন্টেইনার টার্মিনালকে “গ্রীন পোর্ট” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা আমাদের দেশের বাণিজ্য ও পরিবেশ সুরক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
গ্রীন পোর্ট বা পরিবেশবান্ধব বন্দর হলো এমন একটি বন্দর ব্যবস্থা, যা পরিবেশের উপর এর কার্যক্রমের নেতিবাচক প্রভাবগুলো সর্বনিম্ন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গ্রীন পোর্ট শুধুমাত্র পরিবেশবান্ধব পণ্য হ্যান্ডেল করে না, বরং এটি তার পরিচালনা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে।
গ্রীন পোর্টের মূল বৈশিষ্ট্য ও উদ্যোগসমূহ
একটি গ্রীন পোর্ট সাধারণত নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর উপর গুরুত্ব দেয়:
- কম কার্বন নির্গমন (Low Carbon Emissions):
- ফসিল ফুয়েলের ব্যবহার কমিয়ে বিদ্যুৎ-চালিত কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সরঞ্জাম ব্যবহার করা। (যেমন: ইলেকট্রিক RTG ক্রেন)।
- শক্তির দক্ষতা (Energy Efficiency): বন্দরের বিভিন্ন কাজে এবং টার্মিনাল আলোকিত করতে শক্তি সাশ্রয়ী (যেমন LED) প্রযুক্তি ব্যবহার করা।
- ডক করা জাহাজগুলোকে তাদের নিজস্ব জেনারেটরের পরিবর্তে ভূমিতে স্থাপিত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা (Shore Power) ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া, যা দূষণ ও শব্দ কমায়।
- নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার (Use of Renewable Energy):
- বন্দর এলাকায় সৌর প্যানেল বা অন্যান্য নবায়নযোগ্য শক্তি স্থাপনের মাধ্যমে নিজেদের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো।
- বর্জ্য ও জল ব্যবস্থাপনা (Waste and Water Management):
- বন্দরের কার্যক্রম থেকে উৎপন্ন বর্জ্যের পরিমাণ কমানো, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার (Recycling) করা এবং যথাযথভাবে নিষ্পত্তি করা।
- জল সংরক্ষণ এবং সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।
- জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো (Climate Resilient Infrastructure):
- জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব (যেমন- সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি) মোকাবিলায় সক্ষম করে অবকাঠামো তৈরি করা।
- ডিজিটালাইজেশন ও দক্ষতা (Digitalization and Efficiency):
- অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল ব্যবস্থা ব্যবহার করে লজিস্টিকস প্রক্রিয়াকে দ্রুত এবং আরও কার্যকর করা, যা কন্টেইনারের অপেক্ষার সময় ও সামগ্রিক দূষণ কমিয়ে আনে।
- লালদিয়া টার্মিনালের গুরুত্ব
চট্টগ্রামের লালদিয়ার চরে এপি মোলারের নতুন কন্টেইনার টার্মিনালটি একটি গ্রীন পোর্ট হিসেবে তৈরি হওয়ার কারণে, এটি বাংলাদেশের লজিস্টিকস খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে: - বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুসরণ: এটি আন্তর্জাতিক পরিবেশগত মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
- কম কার্বন ফুটপ্রিন্ট: শক্তি সাশ্রয়ী সরঞ্জাম এবং পরিবেশবান্ধব অনুশীলনের মাধ্যমে কার্বন নির্গমন কমবে।
- অর্থনৈতিক সুবিধা: দক্ষতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পণ্য পরিবহন খরচ কমবে এবং দেশের রপ্তানি বাণিজ্য আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে।
এই গ্রীন পোর্ট উদ্যোগটি প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষার প্রতিও দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।